রাতে গভীর ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের ডিম বা কাফ মাসেলে তীব্র ব্যথায় ঘুম ভেঙে যাওয়ার ঘটনা অনেকের কাছেই পরিচিত। মুহূর্তের মধ্যেই পায়ের পেশি শক্ত হয়ে যায় এবং নড়াচড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ সমস্যাকে বলা হয় নকচারনাল লেগ ক্র্যাম্পস, যা একটি সাধারণ হলেও বেশ কষ্টদায়ক শারীরিক অবস্থা।
কেন ঘুমের মধ্যে পায়ে টান ধরে
চিকিৎসকরা জানান, ঘুমের সময় পায়ের মাংসপেশিতে টান ধরার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শরীরে পানিশূন্যতা, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি, দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করা, অতিরিক্ত বা হঠাৎ শারীরিক পরিশ্রম, গর্ভাবস্থা, বয়সজনিত পেশির দুর্বলতা এবং রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা।
ঘুমের মধ্যে টান ধরলে করণীয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় আতঙ্কিত না হয়ে কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করলে ব্যথা দ্রুত কমে আসতে পারে। আক্রান্ত পা সোজা করে পায়ের পাতাটি নিজের দিকে টানলে কাফ মাসল প্রসারিত হয় এবং আরাম পাওয়া যায়। বিছানা থেকে নেমে ধীরে ধীরে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলেও পেশি শিথিল হতে সাহায্য করে। এ ছাড়া টান ধরা স্থানে গরম সেঁক দেওয়া বা কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে ব্যথা উপশম হয়। হালকা তেল দিয়ে মালিশ করাও কার্যকর বলে জানান চিকিৎসকরা।
প্রতিরোধে করণীয়
চিকিৎসকদের মতে, কিছু নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তুললে নকচারনাল লেগ ক্র্যাম্পসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন কলা, ডাবের পানি, বাদাম ও পালং শাক খাওয়া, ঘুমানোর আগে হালকা স্ট্রেচিং করা, দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে কাজ না করা এবং আরামদায়ক ভঙ্গিতে ঘুমানো গুরুত্বপূর্ণ।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, যদি ঘন ঘন পায়ে টান ধরে, পা ফুলে যায়, ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কারণ কিছু ক্ষেত্রে এটি ডায়াবেটিস, স্নায়ুর সমস্যা বা রক্ত সঞ্চালনজনিত জটিলতার লক্ষণও হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও নিয়মিত যত্নই ঘুমের মধ্যে পায়ে টান ধরার সমস্যা থেকে মুক্ত থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।