ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনেই নাটকীয় মোড়। কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. পনির উদ্দিন আহমেদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার আবু বক্কর সিদ্দিক।
মামলা গোপনের অভিযোগে অবৈধ ঘোষণা
রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর ঢাকার মিরপুর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ না করায় পনির উদ্দিন আহমেদের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর বিরুদ্ধে চলমান কোনো মামলা থাকলে তা হলফনামায় উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
দুই আসনে যাচাই, দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
বৃহস্পতিবার যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে কুড়িগ্রাম-১ ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করা হয়।
কুড়িগ্রাম-১ আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়া ছয় প্রার্থীর সবাইকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম-২ আসনে নয়জন প্রার্থীর মধ্যে দুইজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
বাতিল হওয়া দুই প্রার্থী হলেন— জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. পনির উদ্দিন আহমেদ স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আতিকুর রহমান
বাকি সাত প্রার্থী—বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ও এনসিপিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
পনির উদ্দিনের প্রতিক্রিয়া: “আমি কিছুই জানতাম না”
মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পনির উদ্দিন আহমেদ বলেন,
“ঢাকার মিরপুরে আমার নামে মামলা হয়েছে—এ বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। না জানলে হলফনামায় কীভাবে উল্লেখ করব?”
তিনি আরও বলেন,
“আমি কখনো কোনো অন্যায় বা অনৈতিক কাজে জড়াইনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জেলাতেও কোনো সংঘর্ষে জড়িত ছিলাম না। হঠাৎ ঢাকায় মামলা—বিষয়টি আমার কাছে রহস্যজনক।”
তিনি জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আপিল করবেন।
আপিলের সুযোগ থাকছে
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ পাবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।