ঢাকার ধামরাই এলাকায় দেখা দেওয়া টর্নেডো সদৃশ ঘূর্ণিপাককে ‘ধূলিঘূর্ণি’ (ডাস্ট ডেভিল) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি ভূমির অতিরিক্ত তাপের কারণে সৃষ্ট স্বল্পস্থায়ী ও তুলনামূলক কম শক্তিশালী একটি প্রাকৃতিক ঘটনা।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৪২ মিনিটের দিকে ধামরাই উপজেলার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশের বারবাড়িয়া এলাকায় আকিজ ফুডের কাছে শাহজালাল রেস্তোরাঁর সামনে হঠাৎ ধুলো-বালির সরু ঘূর্ণি আকাশের দিকে উঠতে দেখা যায়। মুহূর্তেই পথচারীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয় এবং অনেকে থেমে দৃশ্যটি পর্যবেক্ষণ করেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় সাময়িক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
আবহাওয়াবিদরা জানান, প্রখর রোদে খোলা মাঠ বা শুকনো স্থানে মাটি দ্রুত উত্তপ্ত হলে তার সংস্পর্শের বাতাস হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়। এতে নিচে সাময়িক নিম্নচাপের মতো অবস্থা তৈরি হয়। চারপাশের তুলনামূলক ঠান্ডা বাতাস সেখানে ঢোকার সময় সামান্য ঘূর্ণন তৈরি হলে তা সরু ঘূর্ণিপাকে রূপ নেয়। এ সময় মাটি থেকে ধুলো-বালি, শুকনো পাতা বা হালকা বস্তু উঠে ঘুরতে থাকে—যা ‘ধূলিঘূর্ণি’ নামে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত দুপুরে সূর্যের তাপ বেশি এবং বাতাস শান্ত থাকলে এ ধরনের ঘটনা বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশে শুষ্ক মৌসুমে খোলা মাঠ, চরাঞ্চল বা ফসল কাটা জমিতে মাঝেমধ্যে ধূলিঘূর্ণি তৈরি হয়। মরুভূমি বা অত্যন্ত শুষ্ক অঞ্চলে এর প্রবণতা আরও বেশি।
তারা আরও বলেন, অনেকেই ধূলিঘূর্ণিকে টর্নেডোর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। তবে টর্নেডো সাধারণত বজ্রঝড়ের সঙ্গে সৃষ্টি হয় এবং তা অনেক বেশি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী। বিপরীতে, ধূলিঘূর্ণি পরিষ্কার আকাশে স্থানীয় তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে তৈরি হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর নয়।
তবে আকার বড় হলে ধুলো উড়ে সাময়িকভাবে দৃষ্টিসীমা কমে যেতে পারে এবং হালকা বস্তু উড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। খোলা জায়গায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের এ সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিকেল থেকেই ধামরাইয়ের ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং সাধারণত অল্প সময়ের মধ্যেই মিলিয়ে যায়।